সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে, যার মূল কারণ ছিল ব্যাংক খাতের অধিকাংশ শেয়ারের মূল্যহ্রাস। দিনের শুরুতে ইতিবাচক ধারা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাজার নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রথম দুই ঘণ্টা বাজারে সেই গতি বজায় থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। একে একে ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলো দরপতনের তালিকায় চলে গেলে তার প্রভাব অন্য খাতেও পড়ে। ফলে দিন শেষে দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং সূচক নিচে নেমে যায়।
দিন শেষে দেখা যায়, মোট ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৮০টির দাম কমেছে এবং ৫১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে ২১টির শেয়ার দর কমেছে, যেখানে বেড়েছে মাত্র ৬টির।
ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাঝারি মানের ও ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও। এতে বোঝা যায়, বাজারজুড়ে এক ধরনের সতর্ক মনোভাব কাজ করেছে।
দাম কমার প্রভাবে প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহ সূচকও কিছুটা কমেছে, যদিও বড় কোম্পানিগুলোর সূচকে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ৮২৯ কোটি টাকার বেশি, যা আগের দিনের তুলনায় কম। এতে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সংযত অবস্থানে ছিলেন।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল একটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন ৩৫ কোটির বেশি। পাশাপাশি ওষুধ ও ইস্পাত খাতের কয়েকটি কোম্পানিও উল্লেখযোগ্য লেনদেনে ছিল। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বাজারে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়লেও সার্বিক সূচক কমেছে এবং লেনদেনও হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক আর্থিক চাপের প্রভাব বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

