‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।
রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত প্যারেডে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও পতাকাবাহী দলের অংশগ্রহণে সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল প্রদর্শনী হবে। প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের হাতে বিভিন্ন পদক তুলে দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত কর্ম অধিবেশনগুলোতে গত এক বছরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং বাহিনীর সামগ্রিক কর্মসম্পাদনা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি আগামী বছরের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা সবাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে পুলিশ বাহিনীর সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগে অপরাধের ধরন আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল ফরেনসিকস এবং সিসিটিভি প্রযুক্তির ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের দক্ষ করে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতা থাকলে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদক বিস্তারকে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বাণীতে পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ও সেবার প্রতীক হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এবারের পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক’ এবং সেবাভিত্তিক বিশেষ পদক প্রদান করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মামলা উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার জন্য এসব সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ, মাদক চক্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

