বিমান পরিবহন খাতে স্বস্তি এনে জেট ফুয়েলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৩৯ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এ মূল্য শনিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
শনিবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ বা এভিয়েশন ফুয়েলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে দেশীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং প্ল্যাটস রেটের গড় মূল্য বিবেচনায় এনে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা। এর আগে এ দাম ছিল ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে কমেছে প্রায় ৪০ টাকা।
একইভাবে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য হবে ১ দশমিক ০৩৮৫ মার্কিন ডলার। আগে এ মূল্য ছিল ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম কমানোয় এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে। কারণ বিমান পরিচালনার মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে তার ইতিবাচক প্রভাব বিমান পরিবহন খাতেও পড়ে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানির দাম কমলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। কারণ এয়ারলাইনসগুলোকে ডলার বিনিময় হার, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের চাপও সামাল দিতে হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের ৭ মে জেট ফুয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছিল কমিশন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য আরও কমে যাওয়ায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও নতুন দর নির্ধারণ করা হলো।
বিমান খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলে ভবিষ্যতেও জেট ফুয়েলের দামে সমন্বয় আসতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে এয়ারলাইনসগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

