ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান ভাই হত্যাসহ একাধিক মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ছোট বোন শাযরেহ্ হককে বঞ্চিত করে ট্রান্সকমের শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও আদালত থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
এ বিষয়ে আরও অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি ভাই হত্যার মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ থেকে রেহাই পান। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রভাব খাটিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রভাবিত করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখেন ট্রান্সকম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট দুটি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ সম্পাদকরা। মামলার বাদী শাযরেহ্ হক অভিযোগ করেন, তৃতীয় পক্ষের প্রভাবের কারণে তাদের শুনানির সুযোগ না দিয়েই অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে মামলাটি খারিজ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ২০২০ সালের ১ জুলাই ট্রান্সকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই সম্পত্তি ও শেয়ার নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ শুরু হয়। ২০২৩ সালের দিকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন পরিবারের সদস্যদের সামনে বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে। পরে একপর্যায়ে পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হলে শাযরেহ্ হক প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২০ সালে ঢাকায় শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত বোর্ড সভায় শাযরেহ্ হক ও তার এক ভাই উপস্থিত না থাকলেও তাদের স্বাক্ষর দেখানো হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠাতার অনুমোদনের স্বাক্ষরও ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়ার সময় শাযরেহ্ হকের আইনজীবীদের বক্তব্য না শুনেই আদালত সব আসামিকে অব্যাহতি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শাযরেহ্ হক সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, “সব তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু আমাদের কথা না শুনেই মামলা খারিজ করা হয়েছে। এতে আমরা বিস্মিত। এ ঘটনায় আমরা উচ্চ আদালতে গিয়েছি।”
এছাড়া শাযরেহ্ হক আরও অভিযোগ করেন, সম্পত্তির বিরোধের জেরে তাকে ভাই হত্যার মামলারও বাদী করা হয়। সেই মামলায় অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়ে অব্যাহতি পাওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ট্রান্সকম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই মামলা।

