সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্তরা আগামী তিন মাস প্রতি মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে পাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
সোমবার রাজধানীতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পুরোটা পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ নিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, সহায়তা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই এই সুবিধা পান। প্রয়োজনে ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিতে পরিকল্পিত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ই লাভবান হবেন। বিশেষ করে আলুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে অনেক সময় কৃষক ন্যায্য দাম পান না। এ সমস্যা সমাধানে কৃষকভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কোন এলাকায় কী পরিমাণ আবাদ হচ্ছে তা আগাম জানা যাবে।
তিনি জানান, দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ উপযোগী বিশেষ জাতের আলুর উৎপাদন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে আলুর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।
সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে কিছু হাট বন্ধ করা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে অবৈধভাবে গরু আসার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

