জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম—এমন মন্তব্য করে খাতটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও বিচার বিভাগ এখন অবহেলার শিকার। সীমিত অর্থায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিচারসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত শনিবার (২ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ একই বাজেটে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব উন্নয়ন বিভাগের জন্য ৩ হাজার ৫০০ কোটির বেশি বরাদ্দ রয়েছে। এই সীমিত অর্থ দিয়েই বিচারকদের বেতন, সুপ্রিম কোর্টসহ সব আদালতের প্রশাসনিক ব্যয় পরিচালনা করতে হয়।
বিচার বিভাগের বাস্তব সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সময় একজন বিচারক সাক্ষীর জবানবন্দি লেখার সময় কাগজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কাগজ সংগ্রহেরও সুযোগ পান না। প্রশাসনিক জটিলতায় নতুন কাগজ পেতে দেরি হয়, ফলে মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। এসব সমস্যা বিচারপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায়। কিন্তু এই বিপুল মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত নিয়োগ, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচারিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিচারিক সক্রিয়তা বাড়াতে হবে এবং অযথা মামলার তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থে মামলা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বিচারক চাপের মুখে পড়লে সরকার তার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থাপিত ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছে। দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালের ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।

