আগামী জুলাই মাসে দেশে তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই যান দেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ইভি বাজারে এলে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো এবং পরিবহন খাতে ব্যয় হ্রাসের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি দেশের শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে দেশের তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়ির পরীক্ষামূলক চালনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে মোটরসাইকেল, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং থ্রি-হুইলারও ছিল। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রদর্শনী শেষে আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠকে অটোমোবাইল খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে সরকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যা বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, গাড়িগুলো মূলত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও কিছু উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে। তারা মনে করেন, আমদানি উপকরণে শুল্ক সহায়তা পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা যাবে।
তথ্য অনুযায়ী, তৈরি করা বৈদ্যুতিক এসইউভি একবার সম্পূর্ণ চার্জে চারশ কিলোমিটারের বেশি চলতে সক্ষম। স্বাভাবিক চার্জে ব্যাটারি পূর্ণ হতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে, আর দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তিতে এটি প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই চার্জ করা সম্ভব। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এক চার্জে প্রায় দুইশ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় এক হাজার পাঁচশ কোটি টাকা বিনিয়োগে উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। তারা দাবি করছে, এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অটোমোবাইল উৎপাদন উদ্যোগ, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্ল্যাটফর্ম ও বডি স্থানীয়ভাবে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
উৎপাদকদের মতে, পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি শুধু জ্বালানি খরচই কমাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও ভূমিকা রাখবে। তারা আরও আশা করছেন, দেশীয় বাজারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব যান রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের যানবাহনের ওপর পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনে সহজে পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জিং প্রক্রিয়াকে আরও সুবিধাজনক করবে।

