পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবসা পরিচালনার অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ১০৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার অন-গ্রিড সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে তাদের কার্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মেটলাইফ বাংলাদেশও বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে করপোরেট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। নতুন এই প্রকল্প প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবন বীমা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি সেই প্রচেষ্টাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও হ্রাস পাবে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সুবিধাও পাওয়া সম্ভব।
মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে কার্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের শীর্ষ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণকে তারা দায়িত্বের অংশ মনে করে। একই সঙ্গে গ্রাহক, কর্মী ও বৃহত্তর সমাজের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রকল্পটির কারিগরি বাস্তবায়ন করেছে সেনা কল্যাণ সংস্থার বিজনেস ডিভিশন-৪। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধির জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ হলে দেশের সবুজ জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে।

