পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার সারা দেশে কোরবানি হওয়া পশুর প্রায় অর্ধেকই জবাই হয়েছে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় দেশে মোট প্রায় ৯৩ লাখ ৭০ হাজার গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু জবাই হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে কোরবানি হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার পশু। খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার পশু। অর্থাৎ এই দুই বিভাগেই দেশের মোট কোরবানির প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনাসহ বাকি বিভাগগুলোতে অবশিষ্ট পশুগুলো কোরবানি হয়েছে। দেশের অন্যান্য ছয় বিভাগ মিলে মোট কোরবানির বাকি অংশের হিস্যা বহন করেছে।
ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে প্রায় ৯১ লাখ ৪০ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জনসংখ্যা, নগরায়ণ এবং ক্রয়ক্ষমতার ঘনত্বের কারণে ঢাকা বিভাগে কোরবানির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগ দেশের অন্যতম বৃহৎ পশু উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে কোরবানির হারও উল্লেখযোগ্য।
এবারের পরিসংখ্যান থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও কোরবানির সংখ্যা কমেনি, বরং আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা এবং কোরবানির পশুর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য বলছে, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুই এবার কোরবানির চাহিদার বড় অংশ পূরণ করেছে, যা প্রাণিসম্পদ খাতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

