দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিল। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩১। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের, আর উপসর্গজনিত মৃত্যু হয়েছে ৫৩৯ জনের।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। একই সময়ে নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৩ জনে। পাশাপাশি গত একদিনে আরও ৯৮০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে অনেক রোগী সময়মতো সঠিক চিকিৎসা বা নিশ্চিত শনাক্তকরণের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হামের সংক্রমণ সাধারণত প্রতিরোধযোগ্য হলেও টিকা গ্রহণের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় দেরি এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর ধারাবাহিক বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

