বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দীর্ঘদিনের চাপের মধ্যেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, আমদানি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কেন ডলার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না এবং বৈদেশিক লেনদেনের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে কি না। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, ঘাটতি কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে সরকার আর কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে পুরোপুরি সেইভাবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছু চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের কারণে বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতার লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনি জানান, আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ এবং মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাতের প্রয়োজনীয় আমদানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যকে টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ফলেই এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

