রিকশাচালকদের ওপর লাঠিপেটার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। মিছিলটি টিএসসি এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। মিছিলের শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী বলেন, “রিকশাচালকদের পুনর্বাসন না করে তাদের ওপর লাঠিপেটা করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নামলেই তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অভিহিত করা হয়। এটি রাষ্ট্রের এক অশোভন আচরণ, যা শ্রমজীবী মানুষের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, “রিকশাচালকরা জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামেন। তাদের জীবিকা নির্বাহের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে ব্যাটারি রিকশা নিষিদ্ধ করা এবং এরপর তাদের লাঠিপেটা করার বিষয়টি অমানবিক। অনেক চালক বয়সজনিত কারণে প্যাডেল রিকশা চালাতে অক্ষম। তাদের জন্য কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই কেন এই নির্যাতন?”
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। বক্তারা রিকশাচালকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান এবং তাদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
ছাত্রজোটের এ কর্মসূচি একদিকে রিকশাচালকদের প্রতি সহমর্মিতার প্রকাশ, অন্যদিকে রাষ্ট্রের শ্রমজীবী জনগণের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

