বরিশালের গৌরনদীতে রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবিতে সড়কে নেমেছে সাধারণ মানুষ। মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, কুশপুত্তলিকা দাহ—সব মিলিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল রোড।
গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলার হাসপাতাল রোডে সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে মানববন্ধন শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী বাসস্ট্যান্ডে সড়ক অবরোধ করে রাখে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এতে দুই কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা, যারা ডা. মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, আন্দোলনকারীদের সামনে তিন দফা মহড়া দেয়। এতে ক্ষোভ বাড়ে জনতার। বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন, ও পুলিশের একটি দল। প্রথমে চেষ্টা করেও তারা বিক্ষোভকারীদের সরাতে ব্যর্থ হন। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে—২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
রুবেল গোমস্তা, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, বলেন—
“মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের বিনিময়ে টেস্ট বাণিজ্য করে আসছেন। লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। বাধ্য হয়ে জনগণের রাস্তায় নেমেছি।”
তিনি আরও বলেন—
“প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান—
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”
আন্দোলনের খবর জানাজানি হতেই গোপনে হাসপাতাল ত্যাগ করেন ডা. মনিরুজ্জামান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. মনিরুজ্জামানের রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

