বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের আন্দোলনের চাপের মধ্যে প্রায় ১০০টি যন্ত্রপাতি সচল করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এর কারিগরি টিম হাসপাতালে অচল যন্ত্রগুলো মেরামত করেছে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর রোববার জানান, গত পাঁচ দিন ধরে কারিগরি টিম হাসপাতালের রেডিওলজি, ইমেজিং, প্যাথলজি, সিসিইউ, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, চক্ষু বিভাগ, সার্জারি ও নাক-কান-গলা বিভাগের যন্ত্রপাতি মেরামত করেছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা জানায়, গত সপ্তাহে টিমটি হাসপাতালে এসে অতি প্রয়োজনীয় ৯৫টি অচল যন্ত্র সচল করেছে। পর্যায়ক্রমে আরও একটি এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, লেসিক, ওসিটি, লিথোরিপটর, এন্ডোসকপি সহ ২০টি যন্ত্র সচল করার কাজ চলছে। পরিচালকের তাগিদে নিমিউ অ্যান্ড টিসি থেকে পাঁচ সদস্যের কারিগরি টিম হাসপাতালে আসে। তারা যন্ত্রগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের টেকনিশিয়ানের সঙ্গে আরও দুজন নিমিউ অ্যান্ড টিসি টেকনিশিয়ান যুক্ত হন।
উপসহকারী প্রকৌশলী (অপটিক্যাল) হাফিজুর রহমান জানান, টিমটি ৬টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ২৫টি সাকশন মেশিন, ১০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ৫টি অটোক্লেভ, ১টি সি-আর্ম মেশিন, ২টি মনিটর, ৮টি ওটি টেবিল, ৫টি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, ১০টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ৫টি আইসিইউ বেড, ৬টি ওটি লাইট, ৫টি ডেন্টাল ইউনিট, ২টি ডায়াথার্মি মেশিন, ৪টি ইসিজি মেশিন ও ১টি এক্স-রে মেশিন মেরামত করেছেন।
হাফিজুর আরো বলেন, হাসপাতালের ইকো, কার্ডিয়াক ডিফাইব্রিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, ইসিজি ক্যাথল্যাব (এনজিওগ্রাম), সিটি স্ক্যান, চোখের লেসিক ও ফ্যাকো, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি), ইউরোলজি লিথোরিপটর, আরও একটি সি-আর্ম, দুইটি এক্স-রে ও এন্ডোসকপি মেশিনও মেরামত শেষে সচল হবে।
শেবাচিমের টেকনোলজিস্ট মিথুন রায় বলেন, হাসপাতালের রক্তপরিসঞ্চালন কেন্দ্রসহ রেডিওলজি, ইমেজিং, প্যাথলজি, সিসিইউ, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, চক্ষু বিভাগ, সার্জারি ও নাক-কান-গলা বিভাগের প্রায় ১০০টি মেশিন সচল করা হয়েছে।
পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো ছিল। সেগুলো মেরামত করে সচল করা হয়েছে। নিমিউ অ্যান্ড টিসি থেকে আসা সাত সদস্যের কারিগরি টিম জরুরি ভিত্তিতে ৯৫টি মেশিন সচল করে হস্তান্তর করেছে। আমরা এই মেশিনগুলো রোগীর সেবায় ব্যবহার করছি। বাকি যন্ত্রগুলো সচল করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করা হবে।’

