রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সেমিনারে ১৫টি রাজনৈতিক দলের নেতা দাবি করেছেন, আগামী নির্বাচন জুলাই সনদের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তারা সতর্ক করেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করলে তা দেশকে মহাদুর্যোগের দিকে নিয়ে যাবে। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেছে।
রোববার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত সেমিনারের শীর্ষক ছিল ‘জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলের নেতা ও আইনজীবী শিশির মনির। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সমমনা জোট শরিক এবং সাবেক জামায়াতের নেতাদের দল এবি পার্টিকে আমন্ত্রণ করা হয়নি। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, গুমের শিকার ব্যক্তি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বুদ্ধিজীবী।
শিশির মনিরের মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারায়ায় সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ কার্যকর ছিল না। এ অবস্থায় জনগণের ইচ্ছায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৭(১) ও ৭(২) অনুচ্ছেদ বর্তমান সরকারের বৈধতার আইনি ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারই ফরমান জারি করে সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী আকন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসান নাসির, ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জাতীয় সংস্কার জোট আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমিন আহমদ আফসারী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান বন্ধ করতে ভোটের অনুপাত (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই ঘোষণা অসম্পূর্ণ। রাজনৈতিক দল ও জনগণের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি পূর্ণাঙ্গ ও আইনি ভিত্তি দেওয়া দরকার। অন্যথায় পরবর্তী সরকার তা মানবে না।
ড. আহমদ আব্দুল কাদের উল্লেখ করেন, জুলাই ঘোষণাপত্র জাতিকে হতাশ করেছে। মাওলানা আশরাফ আলী আকন বলেন, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং একটি দলের প্রতি পক্ষপাত করছে।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। বিএনপি একানব্বইতে ক্ষমতায় থাকাকালীন তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়ন করেনি এবং ছিয়ানব্বইতে একতরফা নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এজন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
মাওলানা জালাল উদ্দিন সতর্ক করেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে চব্বিশের বিপ্লবও ছিনতাই হবে। তিনি মনে করিয়েছেন, একাত্তরের অভ্যুত্থানও ছিনতাই হয়েছিল এবং জনগণ পুনরায় ক্ষমা করবে না।
সেমিনারের সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

