ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। সরকার ও প্রশাসনের কার্যক্রমও প্রায় আগের মতোই চলছে। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন এসেছে, তবে মোটামুটি সব ধরনের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলমান। তফসিলের পর প্রশাসন কীভাবে চলবে—এ নিয়ে আগে কিছু প্রশ্ন ওঠেছিল।
তফসিল ঘোষণার পরও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক, একনেক সভা, সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরনো আইন সংশোধন এবং নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়ের কাজও থেমে নেই। প্রশাসনে প্রয়োজনীয় বদলি ও পদোন্নতি কাজ চলমান। তবে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ছাড়া কোনো বদলি বা নিয়োগ এখনো বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্য কোনো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নয়। এটি আওয়ামী লীগের সময়ের মতো দলীয় সরকারও নয়। ভোটে অংশ নেওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। ফলে জনকল্যাণমূলক সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে সরাসরি ভোট বা নির্বাচনি এলাকায় সুবিধা দেয়ার কোনো কাজ করা হবে না।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো কার্যক্রম চালাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কিছু উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দ্বিধা বোধ করছেন। সেক্ষেত্রে তারা শীর্ষ নির্বাহীদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই সংশোধিত সংবিধান বাস্তবায়নের জন্য গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
এ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আপিল দাখিল করছেন। এই কার্যক্রম ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

