এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও শুল্কের উচ্চ হার রাখা হবে না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ক্রমান্বয়ে শুল্কহার কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে গত দেড় বছরে শুল্ক বাড়ানো হয়নি। বরং জনস্বার্থ বিবেচনা করে কিছু নিত্যপণ্যের শুল্কহার কমানো হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব ভবনে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার এনবিআরে সেমিনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস ও কাস্টম স্টেশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, শুধু দেশীয় কিছু শিল্পের সুরক্ষায় কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়। বিশ্বের কোনো দেশেই এখন শুল্ক রাজস্ব আয়ের বড় উৎস নয়। বরং অবৈধ পণ্যের আমদানি রোধ করা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচার ঠেকানো শুল্ক বিভাগের প্রধান কাজ। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে শুল্কের অবদান ছিল ২৭ শতাংশ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি সিগারেট ঠেকাতে বিমানবন্দরে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং কঠোরভাবে দমন করা হবে। পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ মালামাল এক দিনে খালাস হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে পণ্য পরীক্ষা বা গোয়েন্দা তথ্য থাকলে পণ্য আটকে রাখা হয়। কখনও কখনও কাপড়ের আড়ালে মাদক আনা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, পণ্য খালাস আরও সহজ করতে সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ২৬ জানুয়ারি কাস্টমস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও সংস্থাটির সদস্য হিসেবে দিবসটি পালন করে।

