মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হয় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমাদের রপ্তানির ঝুড়িতে সেমিকন্ডাক্টর ও হালাল পণ্য ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। দুই খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দুটি সমঝোতা হয়েছে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল ১১-১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫-এ অংশগ্রহণ করে। সেখানে সেমিকন্ডাক্টর ইনোভেশন ও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টে মালয়েশিয়ার জাতীয় অ্যাপ্লাইড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার–মাইমোস এবং মালয়েশিয়ার অ্যাডভান্স সেমিকন্ডাক্টর একাডেমি–আসেমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।
বিএমসিসিআই জানায়, এ সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ার প্রশিক্ষণ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, আগামী ১৭-১৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য হালাল পণ্যের মেলায় অংশগ্রহণ করবেন দেশের ব্যবসায়ীরা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএমসিসিআই। এতে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি ও চিহ্নিত দুই খাতের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাব্বির এ খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার শাহিদসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সাব্বির খান বলেন, “মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি ২.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ ঘাটতি কমাতে আমরা সেমিকন্ডাক্টর ও হালাল ফুডস—এই দুটি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।” তিনি আরো জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াবে। উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিনির্ভর এই খাতে বাংলাদেশ যদি সক্রিয় না হয়, তবে বড় সুযোগ হাতছাড়া হবে। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে ১৯.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শিল্প নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস রপ্তানি খাতের আকার ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে দেশটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ জনবল সংকট। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ৬০ হাজার দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন হবে, অথচ স্থানীয়ভাবে পাওয়া যাবে মাত্র ১৫ হাজার। ফলে তারা বিদেশ থেকে দক্ষ জনবল নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে।
বিএমসিসিআই সভাপতি আরো জানান, মালয়েশিয়ায় ১৭-১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (এমআইএইচএএস)’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে প্রবেশের দ্বার উন্মোচিত হবে এবং বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়া বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্য আমদানি করে। এটি ২০৩০ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।
এ প্রদর্শনীকে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, বিএমসিসিআই বাংলাদেশে একমাত্র এক্সক্লুসিভ রিপ্রেজেনটেটিভ এবং আন্তর্জাতিক পার্টনার হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইতিমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

