ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে তেহরান। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না—এমন ঘোষণা দিয়ে মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইরান।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের ভূখণ্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই পারমাণবিক সম্পদও দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এটি হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি কখনোই ইরানের নীতিনির্ধারণের আলোচনায় আসেনি। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি—যদিও এ বিষয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানই তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের বিনিময়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চুক্তির কথাও ভাবছে। সম্ভাব্য এই প্রস্তাবে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি সমঝোতার ধারণা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মূল লক্ষ্য—চলমান উত্তেজনা কমানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম ইস্যু শুধু একটি প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক প্রশ্ন নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত শক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এই বিষয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকলেও বাস্তব সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক বাধা পেরোতে হবে—আর সেই পথ কতটা সহজ হবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের নমনীয়তার ওপর।

