দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেইর কানু শহরে চালানো এক ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েকটি ভবন ধসে পড়ে এবং আশপাশের এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছেন।
একই দিনে নাবাতিয়াহ ও টায়ার জেলাতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আরও ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন অনেক মানুষ, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার সময় আকাশজুড়ে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা আতঙ্কে ভরে ওঠে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিন দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল এবং আল-হাউশ-টাইরসহ বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। নাবাতিয়েহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ক্রমাগত হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। হাসপাতালগুলোতে আহত মানুষের চাপ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা বাড়তে থাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সতর্ক করে বলছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

