রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের লাঞ্ছনা, ভুল চিকিৎসা এবং মৃত ব্যক্তিকে তিন দিন আইসিইউতে রাখার অভিযোগের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ১৬ মে সংঘটিত ঘটনার পর বুধবার (২০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোজিনা বেগম গত ৮ মে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি চতুর্থ স্টেজের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ মে বিকাল ৪টায় মৃত্যু বরণ করেন। রোজিনা বেগমের মৃত্যুর পর তার আত্মীয় স্বজনেরা রোগীর স্কয়ার হাসপাতালে ভুল অপারেশন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য। ভর্তিকালীন এই সময়ে রোজিনা বেগমের কোনো প্রকার অপারেশন হয় নাই।
এতে আরও বলা হয়, রোগীর স্বজনরা ৩ দিন ধরে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয়েছে এবং রোগীর ব্যাপারে তাদের কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য। রোগীর অ্যাটেনডেন্টরা ভর্তিকালীন সময়ে প্রতিদিন ফোনের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর রেখেছেন ও সশরীরে উপস্থিত হয়ে রোগীকে দেখেছেন। একই সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছ থেকে ক্লিনিক্যাল ব্রিফিংও নিয়েছেন। এ সংক্রান্ত রেকর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।
এই রোগীর মৃত্যুকালীন হাসপাতালের বকেয়া বিল ছিল ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৬ টাকা, যা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করেই রোগীর আত্মীয়-স্বজন জোরপূর্বক মৃতদেহ রিলিজ নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে বলা হয়, রোগীর মৃত্যুর পর তার আত্মীয় স্বজনেরা হাসপাতাল কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে এ সব ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অপপ্রচার চালিয়ে হাসপাতালের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের এবং হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, গত ১৬ মে বিকেল ৪টায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনা বেগম নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ পর্যায়ে ছিলেন।
এর আগে গত ৮ মে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসায় অবহেলা এবং মৃত রোগীকে আইসিইউতে রেখে ব্যবসা করার অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।
এ নিয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। হেনস্তার শিকার হন মেডিসিন ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান রাব্বানী।

