রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় তীব্র জনমতের মুখে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত যেন বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই বাসার বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটি আবদুল হান্নান মোল্লা ও পারভিন বেগম দম্পতির মেয়ে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটির বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, শুধু দ্রুত বিচার নয়, শিশু সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের নজরদারির বিষয়েও জোর দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে এবং জনমনে আস্থা ফিরতে পারে।

