দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর চারজন মারা গেছে হামের লক্ষণ নিয়ে। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে হাম-সংক্রান্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও এক হাজার ৪২৩ শিশুর শরীরে হাম বা হামের মতো উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫৯ হাজার ২৭৯ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ হাজার ২৭৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ২০৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কারণে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। গত দুই মাসের বেশি সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ হাজার ৪০৭ শিশু। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪২ হাজার ৩৩৬ জন। তবে এখনো হাজার হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সরকারি তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪০৫ শিশু। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৮৩ জনের। সব মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৪৮৮।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং শিশুদের জন্য আলাদা চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

