রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যখন দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ, তখন বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মিরপুরের পল্লবী এলাকায় রামিসার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে অবহিত হন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রামিসার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। বিচার দাবিতে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন। তাদের দাবি ছিল, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুর–১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে একটি অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের ফলে মামলাটি দ্রুত এগোবে এবং তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি তারা আশা প্রকাশ করছেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়ে অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পাবে।
ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক শোক নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ, নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

