বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর এখনো শুরুই হয়নি। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি আরও কয়েক সপ্তাহ।
এর মধ্যেই ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা। আলোচনায় এসেছে, শতবর্ষপূর্তির সেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৬ করা হতে পারে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০৩০ বিশ্বকাপকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বর্তমান ৪৮ দলের বদলে ৬৬ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ধারণা সামনে এসেছে।
বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৩২টি দল। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দল বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ২০৩০ আসরকে আরও বিস্তৃত করার ভাবনা এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা কনমেবল প্রথম ৬৬ দলের প্রস্তাবটি তোলে। মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি করা, যারা এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিয়মিত জায়গা করে নিতে পারে না। শুরুতে বিষয়টি কেবল আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশনের আগ্রহের কারণে প্রস্তাবটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফিফার শীর্ষ পর্যায় থেকেও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ‘এএস’। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপকে বৈশ্বিক ফুটবল উৎসব হিসেবে তুলে ধরার কথা বলে আসছেন। বিশেষ করে যেসব দেশ আগে কখনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি, তাদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন।
দলসংখ্যা বাড়ানোর সুফলের উদাহরণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দল। ফলে ফিফা ও বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে এখন আলোচনা চলছে, কীভাবে এই আসরকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়।
তবে ৬৬ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। বিষয়টি বর্তমানে প্রস্তাবনা পর্যায়েই রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে দীর্ঘ আলোচনা, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন পক্ষের সম্মতির প্রয়োজন হবে। তবে একসময় ৪৮ দলের বিশ্বকাপকেও অনেকেই অসম্ভব বা অযৌক্তিক বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও বড় বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই বছর পরপর ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের যে আলোচনা চলছিল, সেটি আপাতত থেমে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

