প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে অবশেষে আবারও শিরোপার স্বাদ পেল ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা।ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব ফ্রেইবারগকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে উনাই এমেরির দল।
বুধবার ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় ভিলা। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাস আর আত্মবিশ্বাসী খেলায় পুরো ম্যাচজুড়েই তারা ছিল অনেক বেশি পরিণত।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইউরি টিলেমান্স। কর্নার থেকে আসা বল দারুণ ভলিতে জালে জড়িয়ে ফ্রাইবুর্গের রক্ষণ ভেঙে দেন তিনি। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এর মাত্র কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার অসাধারণ বাঁকানো শট ফ্রাইবুর্গ গোলরক্ষককে পুরোপুরি হতবাক করে দেয়। ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকে এই গোলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি ফ্রাইবুর্গ। ৫৮ মিনিটে মর্গান রজার্স তৃতীয় গোলটি করে জয়ের সব আশা শেষ করে দেন জার্মান ক্লাবটির। এরপর পুরো স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয় ভিলা সমর্থকদের উৎসব মঞ্চে।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর প্রথম কোনো বড় শিরোপা জিতল অ্যাস্টন ভিলা। একইসঙ্গে ১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের পর এটিই তাদের প্রথম বড় ইউরোপীয় ট্রফি।
ক্লাবটির ইতিহাসে ১৯৮২ সালের ইউরোপিয়ান কাপ জয় এখনও সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি। তখন বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেই দলের কিংবদন্তি ফুটবলাররাও এবার গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। যেন অতীত আর বর্তমানের এক আবেগঘন মিলনমেলা তৈরি হয়েছিল ইস্তাম্বুলে।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কোচ উনাই এমেরির। ইউরোপা লিগে এটি তার পঞ্চম শিরোপা। এর আগে সেভিয়া ও ভিয়ারিয়ালের কোচ হিসেবেও এই প্রতিযোগিতা জিতেছিলেন তিনি। ইউরোপা লিগে তার সাফল্য এখন প্রায় কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
মজার বিষয় হলো, মৌসুমের শুরুটা ছিল ভিলার জন্য ভয়াবহ। প্রথম ছয় ম্যাচে কোনো জয় ছিল না, গোলও করেছিল মাত্র দুটি। সেই দলটাই মৌসুম শেষে ইউরোপ সেরা হয়ে গেল।
শুধু ইউরোপা লিগ নয়, কয়েকদিন আগেই লিভারপুলকে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগও নিশ্চিত করেছে ভিলা। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ক্লাবটির সমর্থকেরা পেয়েছেন দ্বিগুণ আনন্দ।
দীর্ঘ সময়ের হতাশা, ব্যর্থতা আর শিরোপাহীনতার পর অ্যাস্টন ভিলার এই জয় শুধু একটি ট্রফি জেতার গল্প নয়। এটি একটি ক্লাবের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, বিশ্বাসের গল্প এবং নতুন এক স্বপ্নের সূচনার গল্প।

