Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, মে 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home»অর্থনীতি»বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে ধস—কী ইঙ্গিত দিচ্ছে অর্থনীতিতে?
    অর্থনীতি

    বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে ধস—কী ইঙ্গিত দিচ্ছে অর্থনীতিতে?

    নিউজ ডেস্কমে 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    চলতি বছরের মার্চে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা এ খাতের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় অনেকের প্রত্যাশা ছিল, দেশের বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে।

    কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো পথে হাঁটছে। নির্বাচনের পরপরই ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী ধারা সামনে আসায় সেই আশাবাদ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—বিনিয়োগের এই ধীরগতির মূল কারণ আসলে কী? অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতাই এ পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগ পরিবেশে। অনিশ্চয়তা বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন প্রকল্প বা ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বিশেষ করে যারা নির্বাচনের পর নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করার কথা ভাবছিলেন, তারা এখন বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ঝুঁকি এবং আমদানি-নির্ভর অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপের কথা বিবেচনা করে অপেক্ষার পথে রয়েছেন। ফলে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি আরও মন্থর হয়ে পড়েছে।

    ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেউই বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায় না। তাঁর ভাষায়, করোনা মহামারির পর থেকেই অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখনো কাটেনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তাঁর মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে।

    ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এখন আপাতত স্থগিত রয়েছে। তিনি জানান, ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার সম্ভাব্য অবমূল্যায়নের আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তাদের মুদ্রার মান সমন্বয় করায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে বড় কিছু ঋণগ্রহীতাকে অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে বাজার এখন এক ধরনের সমন্বয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন ঋণের চাহিদাও কমে এসেছে।

    অন্যদিকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক নয়।

    তিনি জানান, উচ্চ সুদের হার এখন বিনিয়োগের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নতুন ঋণই নয়, আগের ঋণের খরচও বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা চাপে পড়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বাণিজ্যিক ঋণের পরিবর্তে নিরাপদ হিসেবে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যেখানে তুলনামূলক বেশি ও নিশ্চিত মুনাফা মিলছে। মীর নাসির হোসেনের মতে, বর্তমান ঋণ প্রবৃদ্ধির ধারা কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়। তাঁর ভাষায়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি সংকেত।

    বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বল গতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই ধারা কেবল একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং বেসরকারি বিনিয়োগ সংকটের একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

    তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সম্প্রসারণে আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোও ঝুঁকি নিতে আগ্রহ হারাচ্ছে বা সীমিত করছে। ঋণের উচ্চ ব্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক খাতের ভেতরে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে ক্রমাগত প্রভাবিত করছে।

    আব্দুর রাজ্জাকের মতে, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, প্রভিশনিংয়ের চাপ, মূলধন ঘাটতি, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং তারল্য সংকট ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে। অন্যদিকে ঋণগ্রহীতাদের যোগ্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত এখন অনেক বেশি রক্ষণশীল অবস্থানে চলে গেছে। নতুন বিনিয়োগে সহায়তা করার চেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থান বা ব্যালেন্স শিট সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার ভাষায়, সামগ্রিক চিত্রটি অস্বাভাবিক। বাংলাদেশ এখন একসঙ্গে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর সরবরাহ অনীহা—এই দুই চাপের মুখোমুখি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দ্বিমুখী সংকট অর্থনীতিকে ‘নিম্ন-ভারসাম্যের ফাঁদে’ ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। আস্থার ঘাটতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছে, ঝুঁকির কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না, আর উৎপাদন ও আমদানি সংকুচিত হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ধীর হয়ে পড়ছে। এতে নতুন ঋণের যৌক্তিকতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে স্বাভাবিক নীতিগত সমন্বয়ের বাইরে বড় ও কাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম ভিন্ন মত দেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরায় এপ্রিল-মে মাস থেকে ঋণের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করবে। তাঁর মতে, বর্তমান মন্দা পরিস্থিতি ইতোমধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে। তবে আব্দুর রাজ্জাক সতর্ক করেন, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের প্রভাব স্বীকার না করলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি ঋণ ব্যাংকগুলোকে তুলনামূলক নিরাপদ ও নিশ্চিত আয়ের সুযোগ দেয়। ফলে বেসরকারি খাত ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তাই শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বা মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল করাই যথেষ্ট নয়। ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন, সুশৃঙ্খল সরকারি ঋণনীতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সুস্পষ্ট নীতিগত বার্তা প্রয়োজন।

    তিনি আরও বলেন, পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে স্বল্প সুদের ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চলমান আইনি সংস্কার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। —সব মিলিয়ে অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিনিয়োগ আস্থা ও ব্যাংকিং কাঠামোর গভীর সংকেত বহন করছে।

    সব বিশ্লেষণ শেষে একটি প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে অর্থনীতির এই ধীরগতি কি সাময়িক ঝড়, নাকি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের শুরু? যদি বিনিয়োগ থেমে যায়, তাহলে প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন আসলে চালাবে কে?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    করজালে যুক্ত হচ্ছে লক্ষাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান

    মে 24, 2026
    অর্থনীতি

    গাড়ির দামের ওপরই নির্ভর করবে নতুন কর কাঠামো

    মে 24, 2026
    অর্থনীতি

    অর্থনৈতিক চাপে প্রকল্প ঋণ পুনর্বিন্যাসের পথে সরকার

    মে 24, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    অর্থনীতি জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.