Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, মে 23, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home»আইন আদালত»মুক্তির দরজায় শ্যোন অ্যারেস্টের শিকল—জামিন পেলেও শেষ হয় না বন্দিত্ব
    আইন আদালত

    মুক্তির দরজায় শ্যোন অ্যারেস্টের শিকল—জামিন পেলেও শেষ হয় না বন্দিত্ব

    মনিরুজ্জামানমে 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    কুড়িগ্রামের ইসতিয়াক মিলন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসেন। পরে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে একটি বেসরকারি অফিসে কাজ শুরু করেন কিন্তু মাত্র আট মাসের মধ্যেই তার জীবনে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা।

    ওই বছরের ২৮ অক্টোবর অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে অভিযোগ আনা হয়, স্থানীয় বাবলি মসজিদের সামনে পাকা রাস্তায় নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ইসতিয়াককে ওই মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়। তবে তার কোনো রাজনৈতিক পদ বা পদবি নেই।

    প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর ২২ ডিসেম্বর ওই মামলায় তিনি জামিন পান কিন্তু কারামুক্তির পরও তার পরিস্থিতি সহজ হয়নি। একই থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যাকে শ্যোন অ্যারেস্ট বলা হয়। এরপর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

    চলতি বছরের ১৬ মার্চ দ্বিতীয় মামলায় জামিন পান তিনি। দুই দিন পর তিনি কারামুক্ত হন। তবে ইসতিয়াকের দাবি, নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্টের ঝুঁকি এড়াতে তাকে বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয় বা ‘ম্যানেজ’ করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভাইয়ের বাসায় থাকতেন আল মারুফ। তিনি টিউশনি করে জীবন চালাতেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে র‍্যাব তাকে ভাইয়ের বাসা থেকে আটক করে।

    পরে তাকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর রাতে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পে যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা সাবান ফ্যাক্টরির রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এরপর তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। দুই মামলায় জামিন পেলেও পরে রমনা থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের আরও দুই মামলায় তাকে আবারও শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ইসতিয়াক কারামুক্তি পেলেও আল মারুফ এখনও কারাগারে আছেন। শ্যোন অ্যারেস্টের জটিলতায় তিনি এক বছর তিন মাস ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

    শ্যোন অ্যারেস্টের জাঁতাকলে পড়ে দীর্ঘ কারাবাসের এমন অভিজ্ঞতা শুধু ইসতিয়াক বা মারুফের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মাধ্যমে শত শত বন্দির কারাবাস ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামিনের পরও নানা স্তরের ‘ছাড়পত্র’ এবং পুলিশি ক্লিয়ারেন্সের ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদনের কারণে নতুন মামলার আসামি হিসেবে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে অনেককে। এই প্রক্রিয়া ঘিরে পুলিশি বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে।

    সম্প্রতি শ্যোন অ্যারেস্টের পর জামিন পাওয়া অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জামিন হলেও সেই আদেশ সরাসরি কারাগারে পৌঁছায় না। বরং প্রথমে তা যায় পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে। সেখান থেকে তদন্ত কর্মকর্তারা আসামির ঠিকানা যাচাই করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে পরিবারই আগেভাগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভুক্তভোগীদের ভাষায়, এই পুরো প্রক্রিয়ায় ‘ম্যানেজ’ করেই শ্যোন অ্যারেস্ট এড়াতে হয়।

    এছাড়া আদালতে হাজিরা দিতে আসা দুই শ্যোন অ্যারেস্টভুক্ত আসামি জানান, জামিন হলেও কারাফটকে বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র না মিললে মুক্তি মেলে না। কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই কারা গেটে দায়িত্বরত গোয়েন্দাদের জামিনের তথ্য জানায়। ফলে জামিন হলেও বন্দিদের মধ্যে শ্যোন অ্যারেস্ট আতঙ্ক থেকেই যায়। এই আতঙ্কে অনেকেই জামিনের আবেদনও করেন না বলে তারা জানান।

    আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত থেকে জামিনের পর সংশ্লিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা যাচাই করার কথা। তবে অন্তত ৩০টি শ্যোন অ্যারেস্ট সংক্রান্ত মামলার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব আসামিকে যেসব মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, তার কোনো এজাহারেই তাদের নাম ছিল না। বরং সবাইকে সন্দেহভাজন হিসেবে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চললেও ২০২৫ সালের আগে আইনের পরিভাষায় সরাসরি ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ শব্দটির উল্লেখ ছিল না। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডন্যান্স-২০২৫’ জারি করে। এতে ১৬৭এ ধারায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ শব্দটি যুক্ত করা হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ প্রণয়ন করে। নতুন আইনে আবারও ১৬৭এ ধারায় শ্যোন অ্যারেস্ট সম্পর্কিত বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো আমলযোগ্য মামলার বিচার বা অনুসন্ধানের সময় আদালতে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধে জড়িত বলে প্রতীয়মান হন, তাহলে আদালত সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার দেখাতে পারেন। এই প্রক্রিয়াই সাধারণভাবে শ্যোন অ্যারেস্ট নামে পরিচিত। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তব প্রয়োগে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করছে।

    আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, এ ধরনের শ্যোন অ্যারেস্ট পুলিশের ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার। তাঁর মতে, এর পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে কারাগারে রাখা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে জামিন পাওয়ার পরও শ্যোন অ্যারেস্টের মাধ্যমে আবার বন্দি করা হচ্ছে।”

    অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জামিনপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, তা যাচাই না করেই শ্যোন অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে এই সিনিয়র আইনজীবী বলেন, এই তথ্য তদন্ত কর্মকর্তার আগেই জানার কথা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, জামিনের পর হঠাৎ করে এই বিষয়গুলো ‘জানা গেছে’ বলা সন্দেহজনক। এজাহারে নাম থাকুক বা না থাকুক, সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্টের নামে কাউকে আটক দেখানো ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    আদালত ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর আসামিদের বড় অংশকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। এসব মামলার এজাহারে যাদের নাম ছিল বা রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত—তাদের অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন থানার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।

    সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে বা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে—এমন সাধারণ বক্তব্য ব্যবহার করে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, কেউ সত্যিই ঘটনায় জড়িত হলে তার নাম অবশ্যই এজাহারে থাকত। অন্যদিকে, কোনো আসামি বা সাক্ষীর ১৬৪ বা ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে নাম এলে তবেই শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর যৌক্তিকতা তৈরি হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, কোনো মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে হলে সেই মামলার সাক্ষী বা আসামির জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকতে হবে। তা না হলে এটি আইনের অপব্যবহার হয়ে দাঁড়ায় এবং এতে কিছু ব্যক্তির অন্যায় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

    আইনসংশ্লিষ্টদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নজির অনুযায়ী, আদালত জামিন মঞ্জুর করলে তা দ্রুত কার্যকর করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে অযথা আটকে রাখা বা মুক্তিতে বিলম্ব করা আইনবিরোধী এবং এতে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    তবে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে আইনজীবী, স্বজন এবং আদালত সূত্রের বক্তব্যে। তারা জানান, জামিন হলেও অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি মিলছে না। বরং ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা ‘ছাড়পত্র’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিনের পরও আসামিকে এক থেকে তিন দিন পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হচ্ছে। ছাড়পত্র না মিললে অনেক ক্ষেত্রে আবারও শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে নতুন করে কারাবন্দি করা হচ্ছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামিন আদেশের পর মুক্তির আগে পুলিশি প্রসিকিউশন বিভাগ, গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর তা কারাগারে পৌঁছায়। এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ম্যানেজ’ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মামলার আসামিদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠছে। সেই সুবিধা না হলে শ্যোন অ্যারেস্টের পথে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

    রাজনৈতিক মামলায় আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী বলেন, বাস্তবে যত শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষেত্রে শ্যোন অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে সমঝোতা বা রফার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তাদের ভাষ্য, আদালত জামিন দিলেও অনেক সময় পুলিশি প্রক্রিয়া ‘ম্যানেজ’ না করলে কার্যত মুক্তি নিশ্চিত হয় না।

    শ্যোন অ্যারেস্টের পর জামিন পাওয়া ইসতিয়াক মিলন বলেন, প্রথম মামলায় তার নামই ছিল না। জামিন পাওয়ার পর ওই দিনই তার আইনজীবী আদালতে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে জামিননামা দাখিল করেন কিন্তু পরদিনই একই থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের আবেদন করে ডিবি।

    দ্বিতীয় মামলায় জামিন মিললেও জামিননামা দাখিলের পরও তাকে দুই দিন কারাগারে ‘অবজারভেশনে’ রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট এড়াতে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের জিআর শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ইসতিয়াকের ভাষায়, দ্বিতীয় মামলায় জামিন পেলেও আগের ঘটনার মতো আবারও শ্যোন অ্যারেস্টের আশঙ্কায় ছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, জামিনের পর কারাগারে ‘অবজারভেশন’ দেখিয়ে আটকে রাখা হয় এবং নতুন মামলায় আটক দেখানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের চাপ তৈরি হয়। তার মতে, রাজনৈতিক মামলার আসামিরা সবাই কারাগারে শ্যোন অ্যারেস্টের আতঙ্কে থাকেন।

    তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, ইসতিয়াক একা নন, হাজারো আসামি একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এক মামলায় জামিন পেলেও পরের মামলায় আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তার ভাষায়, অনেক সময় শ্যোন অ্যারেস্ট এড়াতে থানা-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, এই শ্যোন অ্যারেস্ট শুধু আইনের অপব্যবহার নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং মৌলিক অধিকারের জন্যও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

    অন্যদিকে একাধিক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাবন্দি থাকা আল মারুফের বড় ভাই মো. মহসিন বলেন, তার ভাই পড়ালেখা করতেন এবং চাকরি খুঁজছিলেন। কাজ না পেয়ে টিউশনি করতেন। কিন্তু এখন তাকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, যেসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি পরিবারের। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আইনি সহায়তা নিয়েও ভাইকে কারাগার থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছে না।

    আল মারুফের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, তার মক্কেলকে একে একে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা শ্যোন অ্যারেস্ট হিসেবে নথিভুক্ত। তার কোনো রাজনৈতিক পদ বা পরিচিতি নেই, তবুও এক মামলায় জামিন পেলেই অন্য মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে কারাবন্দি আছেন বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। তাঁর মতে, এটি স্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন।

    তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে জামিনের পর কোর্ট প্রসিকিউশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট থানা ও জোনে আসামির পরিচয় ও তথ্য পাঠায়। এরপরই অনেক ক্ষেত্রে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজনৈতিক পরিচয় বা পদ-পদবি থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট একটি ‘নিয়মিত চর্চায়’ পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে কেউ কেউ মুক্তি পান। আইন অনুযায়ী, জামিনপ্রাপ্ত আসামির বেলবন্ড জমা দেওয়ার পর তা কারাগারে পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা—এটিও উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।

    অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, কোনো কারাবন্দি আসামি যদি অন্য মামলায় সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়। এরপর থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি যাচাই করে। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন বিভাগে আবেদন এলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

    তিনি আরও জানান, সাধারণত তিন ধরনের মামলায় জামিনের পর প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য পাঠানো হয়। এগুলো হলো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা এবং ছিনতাইয়ের মামলা। এসব মামলার আসামিরা জামিন পেলে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়। শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখানোর জন্য প্রসিকিউশন বিভাগের জিআর শাখায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আইনজীবী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর রাতে রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আব্দুল হাকিম নামে নীলফামারীর এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি তেজগাঁও থানার ওই মামলার আসামি।

    মামলার তদন্ত চলাকালেই তাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ আরও দুটি পৃথক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায় বলে জানা যায়। তবে ওই তিনটি মামলায় জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি। পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, এরপর তাকে নীলফামারী জেলায় নিয়ে গিয়ে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল হাকিম নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তার এক স্বজনের দাবি, যেসব মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, তার কোনো ঘটনার সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগঠনে পদ থাকার কারণেই একের পর এক মামলায় তাকে জড়ানো হচ্ছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    কেন নেতানিয়াহু আমিরাতে তার গোপন যুদ্ধকালীন সফরের তথ্য ফাঁস করেছিলেন?

    মে 23, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনা অযৌক্তিকতার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে

    মে 23, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থীরা কীভাবে মুসলিম ও ইহুদিদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে?

    মে 23, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    অর্থনীতি জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.