চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়টি মোট ৫৯১ পৃষ্ঠার।
আজ রোববার (১৫ মার্চ) ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল শাস্তি নির্ধারণের যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামিরা মূল পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের দায়িত্ব মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন সহায়তার মধ্যে সীমিত। এছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর সরাসরি প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ফলে যথাযথ প্রমাণের অভাবে অনেকের সাজা কমানো হয়েছে।
এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলটির নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:
- মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (ঢাকা-১৯ এর সাবেক এমপি)
- এএফএম সায়েদ রনি (আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি)
- রনি ভূঁইয়া (স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা)
- আবদুল মালেক (আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই)
- বিশ্বজিৎ সাহা (সাবেক এএসআই)
- মুকুল চোকদার (কনস্টেবল)
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত:
- সৈয়দ নুরুল ইসলাম (ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি)
- মো. আসাদুজ্জামান রিপন (সাবেক পুলিশ সুপার)
- মো. আব্দুল্লাহিল কাফী (ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস)
- মো. শাহিদুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাভার সার্কেল)
- মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (সাবেক পুলিশ পরিদর্শক, তদন্ত)
- আরাফাত হোসেন (ডিবি তৎকালীন পরিদর্শক)
- নির্মল কুমার দাস (সাবেক পুলিশ পরিদর্শক, অপারেশন)
সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত:
- আরাফাত উদ্দিন (এসআই)
- কামরুল হাসান (এএসআই)
খালাসপ্রাপ্ত:
-
শেখ আবজালুল হক (সাবেক এসআই, রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন)
গ্রেপ্তার রয়েছেন মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, মো. শাহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দিন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও মুকুল চোকদার।

