পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের সময় ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে এবং বাসায় মূল্যবান জিনিস রেখে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে নাগরিকরা চাইলে স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রোববার সকালে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা এবং কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
মো. সরওয়ার বলেন, যাদের ঢাকায় আত্মীয়স্বজন নেই তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে পুলিশের সহায়তা নিতে কোনো দ্বিধা না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বাড়ি ছাড়ার আগে বাসাবাড়ির দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের হেফাজতে রাখার জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।

