মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে।
অর্থাৎ এক বছরে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন।
রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়ন ও সহিংসতার কারণে কয়েক দশক ধরেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আসছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৯ হাজার ৫০২ জন। তবে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর।
সে সময় কয়েক মাসের মধ্যেই ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশের ফলে কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনসংখ্যা বসবাস করছে। সীমিত জমি, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও সতর্ক করে বলছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে এই বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কথা বলা হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমেই এই প্রশ্ন উঠছে—এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর টেকসই সমাধান কীভাবে সম্ভব হবে।

