এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল হাসেম জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইনকনট্রেড লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৬ সালে মামলার বাদী ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির মোট ২ হাজার ৩০০ শেয়ারের মধ্যে ৫০০ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাদী ও তাঁর স্ত্রীকে সে বিষয়ে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে পিবিআই উল্লেখ করেছে, বোর্ড মিটিংয়ের নোটিশ না দিয়েই জাল রেজোল্যুশন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাড়ানো হয়। পরে সেই শেয়ার এককভাবে নিজের নামে বরাদ্দ নেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৭টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫৩৩টি শেয়ার বৃদ্ধি করা হয়। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসব শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তদন্তে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই মামলায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার মোহাম্মদ আমিরুল হকের পক্ষে আমমোক্তারনামা নিয়ে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মুশফিক আল মাসুম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত তদন্তের নির্দেশ দিলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

