বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন। চিঠিতে আইনের শাসন জোরদার, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ–সহ মোট নয়টি সংগঠন সোমবার এ চিঠি পাঠায়। অন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল নাইনটিন, সিভিকাস, এফআইডিএইচ, রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ওই নির্বাচন হয়েছিল একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আগের সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনার কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে, তবে রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক, সাংবাদিকদের ওপর চাপ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সহিংসতার ঘটনা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে যারা একটি স্বৈরশাসনের অবসানে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তারা এখন বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চান। তাঁর মতে, এই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে স্বাধীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা কার্যকরভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং আইনের শাসন বজায় থাকে। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বেআইনি আটক বন্ধ করা, অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিতর্কিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী **র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা জোরদারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরে। তারা বলেছে, দেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।

