আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরতি নেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ ও বৈঠকে অংশ নেন।
শবে কদরের সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ছুটির মধ্যেও সরকারপ্রধান নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যস্ত রয়েছেন।
সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠক ছিল, যা দিনটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঈদের দীর্ঘ ছুটি চলবে আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত। এর আগে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। ওইদিন তিনি দিনাজপুরে সাহাপাড়া খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রথমে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের সাধারণ ছুটি রয়েছে।
তবে ঈদযাত্রা সহজ করতে সরকার অতিরিক্তভাবে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে। ফলে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। দীর্ঘ এই ছুটির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিত থেকে কাজ করার বিষয়টি প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ঈদযাত্রার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটির সময়েও সরকারের কার্যক্রম সচল রাখতে এই ধরনের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

