পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কবে ঈদ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বসতে যাচ্ছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
প্রতি বছর রমজান মাসের শেষে এই বৈঠক ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় বিশেষ উত্তেজনা। চাঁদ দেখা যাবে কি না, তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় ঈদের দিন। কিন্তু এবার আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস সেই উত্তেজনায় কিছুটা অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। হিসাব অনুযায়ী, ওই দিন সূর্যাস্তের পর চাঁদ দিগন্তে অবস্থান করবে মাত্র ৫৪ সেকেন্ডের জন্য। এত অল্প সময়ের উপস্থিতিতে খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই হিসাব যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে এবারের রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিন সম্পন্ন হবে। সে ক্ষেত্রে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে আগামী শনিবার।
অন্যদিকে, শুক্রবারের জন্য কিছুটা আশার কথা শোনা যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে প্রায় এক ঘণ্টার মতো সময় ধরে চাঁদ দেখা যেতে পারে। ফলে সেদিন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন, অর্থাৎ শনিবারই ঈদ উদযাপন করা হবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবহাওয়া পরিস্থিতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ধারা এখনও পুরোপুরি থামেনি, বরং তা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে আকাশ অনেক জায়গায় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে, যা চাঁদ দেখার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বলছে, বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এখন অনেকটাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, এবারের ঈদ উদযাপিত হতে পারে শনিবার।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর। কারণ, ইসলামী বিধান অনুযায়ী সরাসরি চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এখন সবার অপেক্ষা সেই ঘোষণার জন্য। আকাশে চাঁদ দেখা যাক বা না যাক, ঈদের আনন্দ আর ঘরে ফেরার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

