অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আগামী ২৪ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, এসব অধ্যাদেশ বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। মূলত দেখা হবে—এগুলো সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, অন্য কোনো আইনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে কিনা, কিংবা একই বিষয়ে আগে কোনো আইন বিদ্যমান আছে কিনা।
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অধ্যাদেশকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে না। সবগুলোই সমানভাবে যাচাই করা হবে। ১৪ সদস্যের কমিটি যৌথভাবে কাজ করবে এবং আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে ১৫ মার্চ সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাত, স্থানীয় সরকার, নির্বাচন ব্যবস্থা, সরকারি চাকরি, বিচারব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয়। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং নির্বাচন এলাকা নির্ধারণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ তালিকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও আছে—একটি স্মৃতি তহবিল গঠন এবং অন্যটি সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিষয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যালোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলোর আইনি বৈধতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

