পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে ভাটা পড়তে পারে আবহাওয়ার কারণে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার ২১ মার্চ ঈদের দিন সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, যা আবহাওয়াকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদের দিন দেশের কোথাও কোথাও হঠাৎ করেই দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। দেশের প্রায় সব বিভাগেই—রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—বিক্ষিপ্তভাবে এই আবহাওয়া দেখা যেতে পারে।
কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, যা ফসল, যানবাহন এবং খোলা স্থানে থাকা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঈদের দিন সাধারণত মানুষ ঘুরতে বের হন, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যান বা খোলা জায়গায় সময় কাটান—এই আবহাওয়া তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আবহাওয়া অধিদফতর কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২২ মার্চ থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। অর্থাৎ ঈদের পরদিন থেকেই আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নদীপথে চলাচলকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে নদীপথে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলেও কমবেশি ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদে আবহাওয়া বড় একটি অনিশ্চয়তা হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই যারা ঈদের দিন বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট জানা এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ঈদের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়—সেজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

