পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্ত জাতির মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং এটি আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই মাস মানুষকে আত্মসংযম, ত্যাগ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা শেখায়। এক মাসের এই সাধনা মানুষের ভেতরে দয়া, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন আমরা রমজানের শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত করতে পারি। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই এই মূল্যবোধগুলো অনুসরণ করা জরুরি।
ঈদের এই আনন্দের দিনে সবাইকে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তার মতে, ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়। তাই তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, যেন কেউ এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ঈদের এই মহৎ শিক্ষা জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশকে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, যেন ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে নেমে আসে। পাশাপাশি তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেন।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় উঠে এসেছে শুধু শুভেচ্ছা নয়, বরং একটি মানবিক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের আহ্বান—যেখানে ঈদের আনন্দ হবে সবার জন্য সমান।

