পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকাল শুরু হতেই রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নেমে আসে মুসল্লিদের ঢল। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই দিনটির চিত্র যেন একেবারেই ভিন্ন—চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ, ঈদের নামাজ আদায়ে এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ।
সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাতগুলো। প্রথম জামাত শুরু হওয়ার অনেক আগেই মসজিদের ভেতর ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মুসল্লিদের উপস্থিতি এমন ছিল যে, কেউ জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, তবুও ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে অংশ নিতে কারও আগ্রহে ভাটা পড়েনি।
সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। এরপর সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন।
প্রতিটি জামাতেই একই দৃশ্য—নামাজ শুরুর আগেই মসজিদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া, মুসল্লিদের ভিড় সামলাতে প্রশাসনের ব্যস্ততা, আর ঈদের আনন্দে মুখর এক পবিত্র পরিবেশ। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা পুরো পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
এদিকে বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় চতুর্থ এবং বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
পুরো আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প ইমাম হিসেবেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলামকে। ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও জামাত পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
ঈদের নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত মোনাজাত ছিল এই দিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য কাকুতি-মিনতি করেন, রমজানের রোজা ও অন্যান্য ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেন। অনেকেই চোখের জলে নিজের অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং প্রিয়জনদের জন্য জান্নাত কামনা করেন।
এই মোনাজাতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্যও দোয়া করা হয়। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সকল মানুষের কল্যাণ কামনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আয়োজন ও শৃঙ্খলা। মুসল্লিদের উপস্থিতি এবং তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি মানুষের হৃদয়ের গভীরে থাকা বিশ্বাস, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতিফলন।
ঈদের এই সকাল তাই শুধু নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মানুষের মধ্যে নতুন করে ভালোবাসা, ক্ষমা ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

