চৈত্র মাসের শেষভাগে এসে যখন সাধারণত তাপমাত্রা বাড়ার কথা, তখন দেশের আবহাওয়ায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র। বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের দাপট অব্যাহত রয়েছে, যা একদিকে গরম কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
গত ২৪ ঘণ্টাতেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সর্বোচ্চ ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এছাড়া পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ২০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১১ মিলিমিটার এবং পটুয়াখালী ও দিনাজপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে এসেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা নরসিংদীতে রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আপাতত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং এই সময়ের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এই ধরনের আবহাওয়া দেখা যেতে পারে। তবে দেশের কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে।
এই বৃষ্টিপাত সাময়িকভাবে গরম কমিয়ে স্বস্তি দিলেও ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান বা বজ্রপাতের সময় অসতর্ক থাকা বিপজ্জনক হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চৈত্রের এই সময়ে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন কিছুটা অস্বাভাবিক হলেও এর প্রভাব এখনই অনুভব করছে পুরো দেশ। সামনে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, তাই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

