কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনার পর দেশের রেলক্রসিং নিরাপত্তা জোরদারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটগুলোতে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) গেট ব্যবস্থা চালু করা হবে।
আজ রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রেন কাছাকাছি এলে যেন গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে যায়—এমন প্রযুক্তি চালু করা হবে। পাশাপাশি গেটম্যানও থাকবে, যাতে নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও জানান, যেসব স্থানে রেলক্রসিং রয়েছে, সেগুলোর ঝুঁকি কমাতে ভবিষ্যতে আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে রেলওয়ে দুটি এবং স্থানীয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার কিছু আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছে। নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং রেলওয়ের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেন। এই দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।

