মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়লেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি থেমে যায়নি। গত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি বহনকারী মোট ২৫টি জাহাজ ভিড়েছে। তবে সামনে সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা বাড়ছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আসা জাহাজগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ইতোমধ্যে পণ্য খালাস করে চলে গেছে। বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছে, আরেকটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে আরও দুটি জাহাজ—‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’—চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, যা ২৫ মার্চ নাগাদ বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে কিছু জাহাজ নির্ধারিত সময়েও পৌঁছাতে পারছে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জটিলতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি ও ক্রুড অয়েল পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বুকিং থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত চারটি এলএনজি জাহাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রওনা হতে পারেনি। এর মধ্যে কিছু জাহাজ লোড সম্পন্ন করেও যাত্রা শুরু করতে পারেনি, আবার কিছু জাহাজ লোডিং টার্মিনালেই পৌঁছাতে পারেনি। এ সময়ের মধ্যে ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছে। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল বহনকারী একটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করলেও এখনো আনলোডিং শুরু হয়নি।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দৈনিক প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি কার্গো যথাক্রমে প্রতি ইউনিট ২৪ থেকে ২৮ ডলার দরে কেনা হয়েছে, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে একই জ্বালানি প্রায় ১০ ডলারে পাওয়া যেত।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি হয়েছে। এর বড় অংশই এসেছে কাতার থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি আরও চাপে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে।

