বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব যখন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তখনও দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারের দাবি, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে দেওয়া হয়নি।
গতকাল রবিবার (২২ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে নতুন জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশবাসীর সংযম ও সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানি সংকট দেখা দেয়নি। পরিবহন খাতেও বাড়তি ভাড়ার চাপ তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এবারের ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে মানুষ ঈদ পালন করছে। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন-ভাতা পরিশোধ হওয়ায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি, যা ইতিবাচক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহানুভূতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

