বিগত সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যাচাই-বাছাই কমিটির। ইতোমধ্যে ১২০টিরও বেশি অধ্যাদেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। পর্যালোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ২ এপ্রিল জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিতর্কিত জুলাই সনদ বা সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী জানান, “দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অধিকাংশ অধ্যাদেশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। কোনগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাখা হবে আর কোনগুলো বাতিল হবে, তা নিয়ে আমরা একমত হয়েছি। তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনো ‘সর্ট-আউট’ হচ্ছে। বিস্তারিত রিপোর্ট ২ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাকি থাকা কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা হবে। এই বৈঠকের পর পর্যালোচনার সব কাজ শেষ হবে এবং অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইনমন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দলিল। এর ৩ নম্বর পেজের ৬-এর ক ধারা অনুযায়ী, সনদের ৮৪টি আর্টিকেলের মধ্যে ১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত অংশ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। যারা সংবিধান অমান্য করে ভিন্ন কোনো আদেশ দিতে চায়, তারা সনদের মূল লক্ষ্যকে অগ্রাহ্য করছে। আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। “আমরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছি। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আইন পাসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিলগুলো সংসদে উত্থাপিত হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় বা কোনো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ তালিকায় আছে কি না, তা এখনই বলতে পারছি না। মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে,” যোগ করেন তিনি।

