মানব পাচারের মামলায় রিমান্ডে থাকা এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পদের তথ্য তলবের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আজ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর সঙ্গে যুক্ত চারজনের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস প্রক্রিয়াধীন। নোটিস প্রেরণের বিষয়টি কমিশন অনুমোদন দিয়েছে, তবে পূর্বে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তা কার্যকর করা হয়নি।
দুদকের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নোটিস পাঠানোর তালিকায় আছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (এমডি), নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথী এবং তাসনিয়া মাসুদ।
এরই মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠিয়ে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তার গ্রেপ্তারের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন।
২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনা পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির টিকেটে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ১১ মার্চ দুদক তাকে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্য আসামি সরকার নির্ধারিত ফি ৭৮,৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে বৈধ চুক্তি ছাড়িয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ৭,১২৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে তারা অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত।
গত সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। আদালতে হাজির করার পর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শুনানির পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সেনাবাহিনীতে অবস্থানের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৭ সালে নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি একাডেমিক ও যৌথ বাহিনী কার্যক্রমের সমন্বয় করতেন। জরুরি অবস্থার সময় দেশের শীর্ষ রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়ায় তার নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য।
২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হলে, পরবর্তীতে ২০১২ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। অবসরের পর ঢাকায় পাঁচ তারকা হোটেল খোলার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করেন।

