রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধার তীব্র ঘাটতির কারণে গত দুই সপ্তাহে ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় থেকেও আইসিইউতে ভর্তি হতে না পারাই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মার্চের ১০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে এসব শিশুর মৃত্যু ঘটে। আইসিইউতে শয্যা না থাকায় তারা ভর্তি হতে পারেনি।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, হাসপাতালে মোট ৪০টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও শিশুদের জন্য নির্ধারিত মাত্র ১২টি। এর বিপরীতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শিশুকে অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেক সময় এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়—কখনও ৪০-এর বেশি শিশুও ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। তিনি বলেন, আইসিইউতে ভর্তি প্রয়োজন এমন সব রোগীই গুরুতর অবস্থায় থাকে। ফলে কার আগে চিকিৎসা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অপেক্ষমাণ অবস্থাতেই প্রতিদিন শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু রাজশাহী বিভাগ নয়—রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও গুরুতর শিশু রোগীদের এখানে পাঠানো হয়। ফলে বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, শিশুদের দুটি ইউনিটে বর্তমানে প্রায় ৭৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে, যেখানে মোট শয্যা মাত্র ১৬০টি। এই বিপুল রোগীর অন্তত ৫ শতাংশের আইসিইউ প্রয়োজন হয়, যা দৈনিক ৩৫ থেকে ৪০ জনের সমান। কিন্তু সে তুলনায় শয্যা রয়েছে খুবই কম।
সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের নতুন পাঁচতলা ভবনে ৫০ শয্যার একটি আইসিইউ কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। তবে জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার একটি বিশেষ আইসিইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় নির্মিত ২০০ শয্যার ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ এখনো চালু হয়নি। আধুনিক আইসিইউ সুবিধাসহ ভবনটি প্রস্তুত থাকলেও জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে এটি ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা গেলে শিশুদের এমন অকাল মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং নতুন স্থাপনাগুলো চালু করা না গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

