‘আমি বাংলায় গান গাই’– খ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই। শনিবার সকালে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে (আইটিইউ) নেওয়া হয়। সেখান থেকে আর ফেরা হয়নি বাংলা গানের এই জনপ্রিয় শিল্পীর।
গত এক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। এর আগেও তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সংগীতে প্রতুল মুখোপাধ্যায়-
‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনের সফল পরিণতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।
তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘চার্লি চ্যাপলিন’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও আলু বেচো’সহ আরও অনেক গান। বাংলাদেশেও তার গান ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০১১ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয় তার অ্যালবাম ‘আমি বাংলায় গান গাই’।
জন্ম ও কর্মজীবন-
১৯৪২ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে চলে যান ভারতের চুঁচুড়ায়। ছোটবেলা থেকেই সংগীত ও অভিনয়ের প্রতি তার ঝোঁক ছিল।
১৯৬২ সালে প্রথম গান লেখেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। শুরুতে বিভিন্ন কবিতায় সুরারোপ করলেও পরে গণসংগীত রচনা করতে থাকেন। নকশাল আন্দোলনের সময় তিনি ‘সেজদা কমরেড’ নামে পরিচিত ছিলেন।
পেশাগত জীবনে ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করলেও সংগীতের প্রতি টান কমেনি কখনোই। ১৯৯৪ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’, ‘ওঠো হে’, ‘কুট্টুস কাট্টুস’, ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’, ‘তোমাকে দেখেছিলাম’সহ একাধিক জনপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি।
তার মৃত্যুতে সংগীত জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শ্রোতাদের মনে তিনি বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্ট গানের মধ্য দিয়ে।

