নিরবিচারে বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পড়েছে ফেনী জেলা। জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পানি ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার ঘরে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ২৯ হাজার ৭০০ মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি উপজেলায় পানির নিচে চলে গেছে ৬ হাজার ৯৫০টি পরিবারের বসতভিটা।
সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুহুরী, কুহুয়া এবং সিলোনীয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধ ভেঙে যায় জেলার বিভিন্ন স্থানে। পরশুরাম ও ফুলগাজী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে, যেখানে মোট ৩৬টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছে। এতে ডুবে গেছে ১৩৭টি গ্রাম—পরশুরামে ৪৪টি, ফুলগাজীতে ৬৭টি, ছাগলনাইয়ায় ১৫টি, ফেনী সদরে ৯টি এবং দাগনভূঞায় ২টি।
ভাগ্যক্রমে, এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। জেলার প্রায় ১৩০টি গ্রামে পানি নেমে গেছে, তবে কিছু জায়গায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও অনেকেই এখনও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে পারেননি। তিনটি উপজেলায়—পরশুরাম, ফুলগাজী ও দাগনভূঞায়—৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৮৮টি পরিবারের ৩৬৫ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
বন্যা মোকাবিলায় ফেনী জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। পাঁচটি উপজেলায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১৬০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য জেলার ২৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া এবং পরশুরাম উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে ৭২টি লাইফ জ্যাকেট, ১৬টি গামবুট এবং ৩৯টি রেইনকোট সরবরাহ করা হয়েছে। তাছাড়া ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় দেওয়া হয়েছে ১০টি ফাইবার বোট, যাতে করে উদ্ধার কার্যক্রম আরও দ্রুত পরিচালিত হয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন নৌযানসহ।
এই দুর্যোগে ফেনী জেলার মানুষ একসঙ্গে মোকাবিলা করছে চ্যালেঞ্জগুলো। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে—এই আশাই এখন সকলের।

