বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার যেন থামছেই না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম এবং তার পরবর্তী সময়েই এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। তাই অন্তত আরও দুই মাস ডেঙ্গুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি শীতকালেও ডেঙ্গুর প্রভাব পুরোপুরি কমবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত কয়েক বছরেই দেখা গেছে, শীতকালেও ডেঙ্গুর প্রভাব ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন বদলেছে, ফলে শীতেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তাই শুধু বর্ষাকাল নয়, সারা বছরই সতর্ক থাকতে হবে।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডেঙ্গু যেহেতু মশাবাহিত রোগ, তাই মশা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এটি ঠেকানো সম্ভব নয়। তার মতে, চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে সামলানো গেলেও প্রতিরোধ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।
“তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে, শিশুদের ফুলপ্যান্ট পরাতে হবে এবং দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করতে হবে,”—বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়বে। কারণ, তখন একসঙ্গে প্রচুর লার্ভা থেকে মশা জন্ম নেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্তত আরও দুই মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র থাকবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত (১৮ আগস্ট পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৭৫৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে জুলাই মাসে—৪১ জন। আগস্টের প্রথম ১৮ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন।
হাসপাতাল ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। শুধু আগস্ট মাসেই এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৭৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৮০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। যদিও এই সময়ে মৃত্যুর খবর আসেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য নতুন গাইডলাইন অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে রোগীকে প্রথম থেকেই সঠিকভাবে শনাক্ত করা ও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর জটিলতা সাধারণত জ্বর কমে যাওয়ার ৫-৭ দিন পর দেখা দেয়। তাই এই সময়টায় অবহেলা না করে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে অবশ্যই ডেঙ্গুর আলাদা পরীক্ষা করতে হবে।

