রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
শুক্রবার রাতে আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়। পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়, এতে কয়েকজন আহত হন।
আইএসপিআর জানায়, শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে ও আইন মেনে মতপার্থক্যের সমাধান করতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু বারবার সতর্ক করার পরও কিছু নেতাকর্মী সহিংসতা চালায়।
সংঘর্ষকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, মশাল মিছিল বের করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জনদুর্ভোগও বেড়ে যায়।
ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় জননিরাপত্তা রক্ষায় বল প্রয়োগ ছাড়া উপায় ছিল না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। সেনাবাহিনী সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

